
ফয়সাল
আহম্মেদ, নওগাঁ: অনলাইন জুয়ায় হেরে গ্রাহকের জমানো টাকা খোয়ান ব্যাংক কর্মীরা। সেই ঘাটতি মেটাতে নিজেদের সহযোগীদের দিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজান তারা। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের টাকা ছিনতাইয়ের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ব্যাংকের তিন কর্মীসহ চক্রের ৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ
শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে অফিসে ফিরছিলেন। পথে পারইল বাজার এলাকায় আগে থেকে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা প্রকৃত ভুক্তভোগী ক্যাশিয়ার নাজমুলকে পিটিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। অন্যদিকে অফিস সহায়ক রাসেল বাবু নিজেই ছিনতাইকারীদের প্রতি মুহূর্তে অবস্থান জানিয়ে সহায়তা করেন এবং হামলার শিকার হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজান।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, এজেন্ট ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু, লোন কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। গ্রাহকদের জমানো প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা তারা জুয়ায় হেরে যান। এই ঘাটতি ঢাকতেই তারা স্বপন ও হাসান নামের দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে এক মাস ধরে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিনতাইকারী স্বপন ও হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ টাকা দিয়ে নওগাঁ থেকে পালিয়ে যেতে বলা হয়।
ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও রাণীনগর থানা পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে টানা অভিযান চালিয়ে মূল ছিনতাইকারী স্বপন, হাসান ও মোটরসাইকেল মালিক রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয় ব্যাংকের ওই তিন অসাধু কর্মী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।